|
বর্তমানে গণমাধ্যম শিল্পের যে বিকাশ ঘটেছে তার সূচনা হয়েছিল মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে পত্রপত্রিকা ও বই প্রকাশ সহজতর হয়ে উঠে। জ্ঞান অর্জনের পথও আরও সুগম হয়। পত্রপত্রিকা ও বই-পুস্তকের পথ ধরেই রেডিও ও টিভি চ্যানেলের বিস্তার ঘটেছে। এর ফলে মানুষ যে কোন প্রান্তের খবর নিমিষেই জানতে পারছে। ইন্টারনেটসহ এ ধরনের আরও কিছু মাধ্যম আবিস্কৃত হওয়ায় অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে তথ্য আদান-প্রদান সহজতর হয়েছে। কিন্তু এর ফলে নতুন কিছু সমস্যারও সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রতি মুহুর্তেই যেন তথ্য বৃষ্টি ঝড়ছে এবং এর ফলে সৃষ্টি হচ্ছে তথ্যের নতুন নতুন সাগর। এসব তথ্যের কোনটি সঠিক আর কোনটি সঠিক নয়,তা বাছাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশ্চাত্যের শক্তিশালী গণমাধ্যম কেবল নিজেদের স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন তথ্যই বিশ্ববাসীর সামনে প্রচার করছে। তবে দীর্ঘ দিন ধরে এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাসীর সামনে পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমের প্রকৃত চেহারা ফাঁস হয়ে গেছে এবং এসব গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থাও কমে গেছে। আর এ কারণেই বিশ্ববাসীর সামনে সঠিক তথ্য ও সংবাদ পৌছে দিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কিছু সংস্থা ও ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ইসলামী রেডিও-টিভি ইউনিয়নও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমের একক আধিপত্য মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে। ইরানে গত ৩ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর ইসলামী রেডিও-টিভি ইউনিয়নের সাধারণ পরিষদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়নের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে। বিশ্বের ২৫ টি দেশের ৭২ টি রেডিও ও ৫৬ টি টিভি চ্যানেল এবং অনুষ্ঠান নির্মাণ ও সংবাদ সংগ্রহের সাথে জড়িত ৩৫ টি প্রতিষ্ঠান এই ইউনিয়নের সদস্য। প্রতিটি সদস্য-প্রতিষ্ঠানই ইসলামী নীতিমালায় বিশ্বাসী এবং এই ইউনিয়নের ঘোষণাপত্রের প্রতি আস্থাশীল। ইসলামী নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এই ইউনিয়নের সদস্য হতে পারবে।
মুসলমানদের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের বৃহৎ গণমাধ্যমগুলোর অপপ্রচার রুখতে ইসলামী ভাবধারার রেডিও ও টিভি চ্যানেলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট ডঃ মাহমুদ আহমাদিনেজাদ এই ইউনিয়নের সাধারণ পরিষদের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে বর্তমান বিশ্বে গণমাধ্যমের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে বলেছেন, বর্তমানে গণমাধ্যম কেবল তথ্য সরবরাহের মাধ্যমই নয়, একই সাথে তা সংস্কৃতির বিস্তার ও নীতিমালা বাস্তবায়নের একটি হাতিয়ারও বটে। তিনি গণমাধ্যমকে সাম্রাজ্যবাদীদের প্রভাব বিস্তারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ডঃ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, বিভিন্ন জাতির বিরুদ্ধে শত্রুদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে গণমাধ্যম। তারা গণমাধ্যমের সাহায্যে বিভিন্ন জাতির সংস্কৃতি ও চিন্তা-চেতনার উপর আগ্রাসন চালায়। পাশ্চাত্যের দেশগুলো তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার যে শ্লোগান দিচ্ছে,তাকে তিনি ডাহা মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন।
মুসলমানদের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রচারণার কারণে ইসলামী রেডিও-টিভি ইউনিয়নের মতো সংগঠনগুলোর কার্যক্রম বিস্তৃত করা। বর্তমান বিশ্বে এখন মিডিয়া-যুদ্ধ চলছে এবং এর ফ্রন্ট লাইনে রয়েছে মুসলিম বিশ্বের প্রতিশ্রুতিশীল গণমাধ্যমগুলো। ইরানের প্রেসিডেন্ট ঐ ইউনিয়নের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, বর্তমানে খাটি, মানবতাবাদী এবং একত্ববাদে বিশ্বাসী গণমাধ্যমগুলোর অনেক দায়িত্ব রয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, এখন আপনাদের দায়িত্ব শুধু তথ্য পৌছে দেয়া নয় পাশাপাশি আপনাদেরকে সংস্কৃতি নির্মাণ এবং মজলুম জাতি, ঐশী ও মানবিক চিন্তা-চেতনার পক্ষে কথা বলতে হবে।
বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো এখন তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও নীতিমালার আলোকে নিজেদের কর্মসূচী নির্ধারণ করছে। পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমগুলোর মূলনীতি হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী আর্থ-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পাশ্চাত্যের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং তথাকথিত উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছড়িয়ে দেয়া। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তারা সব ধরনের প্রচারণাকে বৈধ বলে মনে করে। ইসলামী রেডিও-টিভি ইউনিয়নকেও তাদের ধর্মীয় নীতি ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও নীতি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট বিশ্বে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি ও একত্ববাদ ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি মুসলিম বিশ্ব ও স্বাধীনচেতা জাতিগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে বলেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট এমন এক বিশ্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে বলেছেন যেখানে হত্যা এবং অন্যায়-অপরাধ থাকবে না।
ইসলামী ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা বা আইআরআইবি-র প্রধান ইজ্জাতুল্লাহ যারগামি এই ইউনিয়নের সাধারণ পরিষদের সমাপনী ভাষণে বলেছেন, বিশ্বে যখন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অনেক সংগঠন গড়ে উঠেছে তখন আমরাও ইসলাম ধর্মকে ভিত্তি করে এই ইউনিয়নটি গড়ে তুলেছি। তিনি প্রচার সম্পর্কে ইসলামের দিক-নির্দেশনা ভালো ভাবে জানতে ইসলামের রেফারেন্স বই বিশেষ করে পবিত্র কোরান অধ্যয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইব্রাহিম (আঃ)-র একটি ঘটনা তুলে ধরে ঐ নবীর প্রচার কৌশল সম্পর্কে বলেছেন, পবিত্র কোরানে আরও অনেক ঘটনা রয়েছে, যেগুলো আমাদেরকে ধর্ম প্রচারের কৌশল বাতলে দিয়েছে। আমাদেরকে এসব সম্পর্কে জানতে হবে এবং এগুলোকেই আমাদের কর্ম-সূত্র হিসেবে বেছে নিতে হবে। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ পবিত্র কোরানের সূরা আহযাব থেকে আয়াত উদ্ধৃত করা যেতে পারে। সূরা আযহাবে বলা হয়েছে, 'এর আগের নবী-রাসূলরা ঐশী নির্দেশ প্রচার করতেন এবং একমাত্র আল্লাহকেই ভয় পেতেন । তারা আল্লাহ ভিন্ন আর কারো জন্য ভীত ছিলেন না। আল্লাহতায়ালাই হিসাব গ্রহণে যথেষ্ট।' মানুষকে যে ঐশী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে এবং আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেও ভয় করা যাবে না, তা এই আয়াতে সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে।
ইসলামী রেডিও-টিভি ইউনিয়নের উচ্চ পরিষদের প্রধান ও লেবাননের আল মানার টিভি চ্যানেলের পরিচালক আব্দুল্লাহ কাসির এই ইউনিয়নের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন, ইসলামী রেডিও-টেলিভিশন এবং সংবাদ সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় সাধন, রেডিও-টিভি অনুষ্ঠান,খবর ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা এই ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ কিছু লক্ষ্য। এই সম্মেলনে ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামী দিক-নির্দেশনা মন্ত্রী সাইয়্যেদ মোহাম্মদ হোসেইনি বলেছেন, বর্তমান বস্তুবাদী বিশ্বে আধ্যাত্মিকতা ও নৈতিকতার আলো ছড়িয়ে দেয়া ইসলামী রেডিও-টিভিগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তিনি আরও বলেছেন, বিশ্বব্যাপী সত্যের বাণী সঠিক ও সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হলে বহু পাঠক ও দর্শক তৈরী করা সম্ভব হবে।
ইসলামী রেডিও-টিভি ইউনিয়নও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমের একক আধিপত্য মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে। ইরানে গত ৩ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর ইসলামী রেডিও-টিভি ইউনিয়নের সাধারণ পরিষদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়নের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে। বিশ্বের ২৫ টি দেশের ৭২ টি রেডিও ও ৫৬ টি টিভি চ্যানেল এবং অনুষ্ঠান নির্মাণ ও সংবাদ সংগ্রহের সাথে জড়িত ৩৫ টি প্রতিষ্ঠান এই ইউনিয়নের সদস্য। প্রতিটি সদস্য-প্রতিষ্ঠানই ইসলামী নীতিমালায় বিশ্বাসী এবং এই ইউনিয়নের ঘোষণাপত্রের প্রতি আস্থাশীল। ইসলামী নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এই ইউনিয়নের সদস্য হতে পারবে।
মুসলমানদের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের বৃহৎ গণমাধ্যমগুলোর অপপ্রচার রুখতে ইসলামী ভাবধারার রেডিও ও টিভি চ্যানেলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট ডঃ মাহমুদ আহমাদিনেজাদ এই ইউনিয়নের সাধারণ পরিষদের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে বর্তমান বিশ্বে গণমাধ্যমের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে বলেছেন, বর্তমানে গণমাধ্যম কেবল তথ্য সরবরাহের মাধ্যমই নয়, একই সাথে তা সংস্কৃতির বিস্তার ও নীতিমালা বাস্তবায়নের একটি হাতিয়ারও বটে। তিনি গণমাধ্যমকে সাম্রাজ্যবাদীদের প্রভাব বিস্তারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ডঃ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, বিভিন্ন জাতির বিরুদ্ধে শত্রুদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে গণমাধ্যম। তারা গণমাধ্যমের সাহায্যে বিভিন্ন জাতির সংস্কৃতি ও চিন্তা-চেতনার উপর আগ্রাসন চালায়। পাশ্চাত্যের দেশগুলো তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার যে শ্লোগান দিচ্ছে,তাকে তিনি ডাহা মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন।
মুসলমানদের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রচারণার কারণে ইসলামী রেডিও-টিভি ইউনিয়নের মতো সংগঠনগুলোর কার্যক্রম বিস্তৃত করা। বর্তমান বিশ্বে এখন মিডিয়া-যুদ্ধ চলছে এবং এর ফ্রন্ট লাইনে রয়েছে মুসলিম বিশ্বের প্রতিশ্রুতিশীল গণমাধ্যমগুলো। ইরানের প্রেসিডেন্ট ঐ ইউনিয়নের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, বর্তমানে খাটি, মানবতাবাদী এবং একত্ববাদে বিশ্বাসী গণমাধ্যমগুলোর অনেক দায়িত্ব রয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, এখন আপনাদের দায়িত্ব শুধু তথ্য পৌছে দেয়া নয় পাশাপাশি আপনাদেরকে সংস্কৃতি নির্মাণ এবং মজলুম জাতি, ঐশী ও মানবিক চিন্তা-চেতনার পক্ষে কথা বলতে হবে।
বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো এখন তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও নীতিমালার আলোকে নিজেদের কর্মসূচী নির্ধারণ করছে। পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমগুলোর মূলনীতি হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী আর্থ-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পাশ্চাত্যের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং তথাকথিত উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছড়িয়ে দেয়া। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তারা সব ধরনের প্রচারণাকে বৈধ বলে মনে করে। ইসলামী রেডিও-টিভি ইউনিয়নকেও তাদের ধর্মীয় নীতি ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও নীতি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট বিশ্বে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি ও একত্ববাদ ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি মুসলিম বিশ্ব ও স্বাধীনচেতা জাতিগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে বলেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট এমন এক বিশ্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে বলেছেন যেখানে হত্যা এবং অন্যায়-অপরাধ থাকবে না।
ইসলামী ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা বা আইআরআইবি-র প্রধান ইজ্জাতুল্লাহ যারগামি এই ইউনিয়নের সাধারণ পরিষদের সমাপনী ভাষণে বলেছেন, বিশ্বে যখন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অনেক সংগঠন গড়ে উঠেছে তখন আমরাও ইসলাম ধর্মকে ভিত্তি করে এই ইউনিয়নটি গড়ে তুলেছি। তিনি প্রচার সম্পর্কে ইসলামের দিক-নির্দেশনা ভালো ভাবে জানতে ইসলামের রেফারেন্স বই বিশেষ করে পবিত্র কোরান অধ্যয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইব্রাহিম (আঃ)-র একটি ঘটনা তুলে ধরে ঐ নবীর প্রচার কৌশল সম্পর্কে বলেছেন, পবিত্র কোরানে আরও অনেক ঘটনা রয়েছে, যেগুলো আমাদেরকে ধর্ম প্রচারের কৌশল বাতলে দিয়েছে। আমাদেরকে এসব সম্পর্কে জানতে হবে এবং এগুলোকেই আমাদের কর্ম-সূত্র হিসেবে বেছে নিতে হবে। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ পবিত্র কোরানের সূরা আহযাব থেকে আয়াত উদ্ধৃত করা যেতে পারে। সূরা আযহাবে বলা হয়েছে, 'এর আগের নবী-রাসূলরা ঐশী নির্দেশ প্রচার করতেন এবং একমাত্র আল্লাহকেই ভয় পেতেন । তারা আল্লাহ ভিন্ন আর কারো জন্য ভীত ছিলেন না। আল্লাহতায়ালাই হিসাব গ্রহণে যথেষ্ট।' মানুষকে যে ঐশী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে এবং আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেও ভয় করা যাবে না, তা এই আয়াতে সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে।
ইসলামী রেডিও-টিভি ইউনিয়নের উচ্চ পরিষদের প্রধান ও লেবাননের আল মানার টিভি চ্যানেলের পরিচালক আব্দুল্লাহ কাসির এই ইউনিয়নের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন, ইসলামী রেডিও-টেলিভিশন এবং সংবাদ সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় সাধন, রেডিও-টিভি অনুষ্ঠান,খবর ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা এই ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ কিছু লক্ষ্য। এই সম্মেলনে ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামী দিক-নির্দেশনা মন্ত্রী সাইয়্যেদ মোহাম্মদ হোসেইনি বলেছেন, বর্তমান বস্তুবাদী বিশ্বে আধ্যাত্মিকতা ও নৈতিকতার আলো ছড়িয়ে দেয়া ইসলামী রেডিও-টিভিগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তিনি আরও বলেছেন, বিশ্বব্যাপী সত্যের বাণী সঠিক ও সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হলে বহু পাঠক ও দর্শক তৈরী করা সম্ভব হবে।